← ব্লগে ফিরে যান
সঞ্চয় ও ঋণ

লোন মাফ ও অবলোপন — হিসাবে আসলে কী ঘটে

মাফ করা আর অবলোপন করা এক জিনিস নয়। দুটোর হিসাব আলাদা, আর দুটোরই রেকর্ড থাকতে হয়।

লোন মাফ ও অবলোপন — হিসাবে আসলে কী ঘটে

কিছু ঋণ কখনো ফিরবে না — সদস্য মারা গেছেন, নিরুদ্দেশ হয়েছেন, বা দেওয়ার মতো কিছুই নেই। এই বাস্তবতা স্বীকার না করে খাতায় টাকাটা সম্পদ হিসেবে রেখে দিলে পুরো হিসাব মিথ্যা বলতে থাকে।

মাফ আর অবলোপনের পার্থক্য

মাফ মানে সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাকাটা আর চাইবে না — সদস্যের দায় শেষ। অবলোপন মানে হিসাব থেকে সম্পদটা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু দায় থেকে যায়; পরে টাকা এলে সেটা আয় হিসেবে ঢোকে।

ছোট সমিতিতে এই পার্থক্য প্রায়ই গুলিয়ে যায়, আর তাতে সদস্যদের ধারণা হয় টাকা না দিলেও চলে। সিদ্ধান্তটা কোন ধরনের, সেটা পরিষ্কার করে লিখুন।

হিসাবে কী ঘটে

দুই ক্ষেত্রেই বাকি আসলটা সমিতির ক্ষতি হিসেবে বসে, তাই লাভ-ক্ষতি হিসাবে লাভ কমে। এটাই সঠিক — কারণ ক্ষতিটা সত্যিই হয়েছে, আজ স্বীকার করলেন কি কাল, তা আলাদা কথা।

আগে থেকে লোন লস প্রভিশন রাখা থাকলে এই ধাক্কাটা একবারে লাগে না। প্রভিশন মানে প্রতি মাসে অল্প অল্প করে সম্ভাব্য ক্ষতি সরিয়ে রাখা।

  • কমিটির লিখিত সিদ্ধান্ত — কারণসহ
  • মাফ না অবলোপন, স্পষ্ট করে লেখা
  • ক্ষতি লাভ-ক্ষতি হিসাবে বসে
  • প্রভিশন থাকলে ধাক্কা কম
  • জামানত থাকলে আগে সেটা আদায়

এটা যেন নিয়ম না হয়

মাফ একবার সহজ হয়ে গেলে খবরটা দ্রুত ছড়ায়, আর তখন নিয়মিত সদস্যরাও ভাবেন তাঁরা বোকা বানিয়েছেন নিজেদের। এতে আদায়ের সংস্কৃতিটাই ভেঙে পড়ে।

তাই মাফ করুন খুব কম, কারণ লিখে, আর কমিটির সিদ্ধান্তে। বছরে কতগুলো মাফ হলো তা হিসাব রাখুন — সংখ্যাটা বাড়তে থাকলে সমস্যা মাফে নয়, ঋণ যাচাইয়ে।

যে টাকা ফিরবে না, সেটা খাতায় সম্পদ হিসেবে রাখা নিজেকে ঠকানো। স্বীকার করুন, লিখে রাখুন, আর কারণটা খুঁজুন।

আজই সমিতি কিপার লাইট দিয়ে হিসাব শুরু করুন

সদস্য, সঞ্চয়, DPS, লোন ও রিপোর্ট — সমিতির সব হিসাব এক বাংলা অ্যাপে।

▶ Google Play App Store